দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ!

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তার পরিবার ও সহপাঠীদের অনেকের মতেই আবরার কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেননা।

 

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ভিন্ন তথ্য। আবরার ফাহাদ সরাসরি ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। আবরারের ফেসবুক প্রোফাইলেও তার প্রমাণ মিলেছে। ২০১৩ সালে সারাদেশ যখন কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে সোচ্চার হয়েছিল, ঠিক তখন এই আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়াতে

বসে গণজাগরণ মঞ্চ ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করা মানুষদের কঠোর বিরোধিতা করে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘যতো সব বেহায়া মানুষের দল শাহবাগের সামনে উলঙ্গপনা করছে। আল্লাহ তুমি এর বিচার করো।’

এছাড়া ২০১৩ সালে আবরার তার আরো একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, এ জুলুম কোনো মানুষ সহ্য করতে পারবে না। আল্লাহ তুমি ইনসাফের মালিক। যারা এতো বড় বড় আলেমদের হত্যা করছে। বিচার তাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ।’ আবরারের এসব বিষয়গুলো তার জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট করে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বুয়েটের শেরে বাংলা হলের এক ছাত্র বলেন, পাকিস্তানের প্রতি আবরার সব সময় সহানুভূতিশীল ছিলেন। পাশাপাশি ভারতের প্রতি ছিলো চরম ঘৃণা। আর এই কারণেই আবরারের ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাসগুলো সর্বদা ছিলো ভারত বিরোধী। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বৈরিতা তৈরি করতে কিছু কুচক্রী মহলের সাথে তার যোগাযোগও ছিলো।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা অনুমান করছি-পাকিস্তানী গুপ্তচরদের সাথে নিহত আবরারের যোগসাজশ ছিলো। কারণ পাকিস্তানপন্থীদের প্ররোচনায় তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে নিহত আবরার রাষ্ট্র বিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলেন। তিনি সর্বদা রাষ্ট্রের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিপ্রায় নিয়ে ফেসবুকে নেতিবাচক স্ট্যাটাস পোস্ট করতেন। এতে রাষ্ট্রের প্রতি তার আনুগত্যের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও উঠতে পারে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে আরো জানা যায়, আবরার হত্যাকাণ্ডে তদন্ত চলমান রয়েছে। সরকার ভিন্নমত সমর্থন করে। ভিন্নমত পোষণকারীকে হত্যা করার বিষয়টি মেনে নিবে না সরকার। তবে আবরারের জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে। কারণ ইতোমধ্যে তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে জানা গেছে, আবরার রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ও পোস্ট দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতেন। যার কারণে হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া থলের বিড়াল, বাংলাদেশ বদরুল লীগ, মেজর জিয়ার সৈনিক ও বাঁশের কেল্লার মতো সরকার বিরোধী গ্রুপগুলোতে সাধারণ মানুষকে বিপথে নেয়ার জন্য দেশের বিপক্ষে অসংখ্য ফেসবুক স্টেটাস দিতেন আবরার ফাহাদ।

এদিকে নিহত আবরারের চাচা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমে দাবি করেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। তবে বুয়েটে ভর্তি হবার গত পাঁচ বছরে আমরা আবরারের ভেতর অনেক পরিবর্তন দেখেছি। তার মুখে ভারতবিরোধীতা ও পাকিস্তানের পক্ষে নানা কথা শুনতাম। জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে রাজনীতি না করার পরামর্শ দিলেও আবরার তা মানতে রাজি হতো না।

জানা গেছে, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক চারজনের পরিচয় জানা গেছে। আটক চারজন হলেন জিয়ন, অনিক, ফুয়াদ ও রাসেল। তারা চারজনই বুয়েটের শিক্ষার্থী এবং শেরে বাংলা হলে থাকেন।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ