আগামী সংসদ নির্বাচন

আওয়ামী লীগ কেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিলো: জেনে নিন ৭-কারণ

চলতি বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ। সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে দেশের রাজনীতিতে ততই ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এতিমখানার জন্য বিদেশী সাহায্য প্রাপ্ত অর্থ আত্নসাত ও  জন্য জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তহবিল তছরুপের জন্য বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের সাজার আদেশ এবং সর্বশেষ খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ বৃদ্ধির মতো বিষয় এখন বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

 

এর আগে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বারবার সংলাপে বসার জন্য  আহবান জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি বরং এক ধরণের উদাসীনতা দেখিয়েছে। সে সময় আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা দাবি করেছিলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল, দেশে কোন সংকট নেই। তাই এ অবস্থায় বিএনপির সঙ্গে কোন রকমের সংলাপেরও প্রয়োজন নেই। কিন্তু হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে দেশ ও জাতিকে চমকে দিয়েছে। বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সংলাপে বসার সদিচ্ছা প্রকাশ করে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে রাজনীতির সুদিন ফিরে আসছে বলে আশায় বুক বাঁধছেন দেশবাসী।

 

কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই কেন ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিল? বিএনপির আহ্বানে সাড়া না দিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে সংলাপে বসতে রাজি হলো আওয়ামী লীগ! অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সংলাপ অনুষ্ঠানের ৭-কারণ। চলুন জেনে নেই সেই ৭-কারণ:

 

১: প্রবীণ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন তার দল গণফোরাম ও আরও ভিন্ন তিনটি রাজনৈতিক দল ও  সুশীল সমাজের একাধিক প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নবগঠিত সেই ঐক্যফ্রন্টে বিএনপিও অন্য তিনটি দলের মতই একটি রাজনৈতিক দল মাত্র। (যদিও রাজনীতি বোদ্ধারা ধারণা করছেন, ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারে, তবে সেই সরকারে মূল ভূমিকা পালন করবে বিএনপি।)

২: স্বাধীনতাবিরোধী, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী বিএনপির রাজনীতির ওপর বরাবরই ব্যাপক প্রভাব রাখে। তাই স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সাথে সংলাপে বসতে আওয়ামী লীগ বরাবরই অনীহা প্রকাশ করেছে।

৩: বিএনপির সঙ্গে সংলাপে না বসার অন্যতম কারণ হলো, আওয়ামী লীগ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে ২১ আগস্টের মতো ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার জন্য বিএনপি দায়ী।

৪: আন্তর্জাতিক চাপ কমিয়ে এবং নির্বাচনের পূর্বে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এই সংলাপের আয়োজন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা, চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থার নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে গভীর যোগাযোগ রাখছে। এই যোগাযোগ সাম্প্রতিক ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে।

৫: সংলাপে আওয়ামী লীগের সাড়া দেওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, বিএনপি আহুত সংলাপের শর্তগুলোর চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শর্তগুলো সংবিধানের আলোকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণীয় এবং আলোচনাযোগ্য মনে হয়েছে। এছাড়াও বিগত দশ বছরে দেশি-বিদেশী নানা ধরণের চক্রান্ত নস্যাৎ করে সুষ্ঠুভাবে দেশ শাসন করার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে আওয়ামী লীগের। ফলে হঠকারী আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতন করবে-বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীরাও তা বিশ্বাস করে না এবং তা তাদের মনোবলে চিড় ধরিয়েছে।

৬: সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা প্রকাশিত বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ পাঠকদের ভুল বার্তা দিয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ অত্যন্ত তৎপরতার সাথেই প্রকাশ্যে এ নিয়ে বড় ধরণের উচ্চবাচ্য করেনি যা দুই শিবিরকে আরও কাছাকাছি এনেছে।

৭: ২০১৫ সালে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো’র মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার বাড়ি পর্যন্ত গেলেও শেখ হাসিনাকে বাড়ির দরজা থেকে ফেরত আসতে হয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ  বিষয়টি চরম অপমান

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ