জাবালে নূরের মালিকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় জাবালে নূর বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনসহ ৬ জনকে আসামি করে আদালতে এই সপ্তাহে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে।

আজ সোমবার দুপুরে মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, যে ছয়জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে তাঁরা হলেন জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাসের মালিক শাহাদাত হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম, দুই চালক মাসুম বিল্লাহ ও জুবায়ের সুমন এবং দুই চালকের দুই সহকারী এনায়েত হোসেন ও কাজী আসাদ। এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন মালিকানাধীন বাসটির চাপায় দুই শিক্ষার্থী মারা যায়। কাজী আসাদ ও জাহাঙ্গীর আলম এখনো পলাতক।

গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর হোটেল র‍্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাস রেষারেষি করতে গিয়ে একটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের ওপর উঠে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত ও নয়জন আহত হয়। নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব (১৭) ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।

এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন।

মিরপুর ও বরগুনা জেলায় অভিযান চালিয়ে জাবালে নূরের তিন বাসের তিন চালক এবং তাঁদের দুই সহযোগী এনায়েত ও রিপনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১)। এরপর গত ১ আগস্ট সন্ধ্যায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে জাবালে নূরের বাসের মালিক শাহাদাত হোসেনকে (৬০) গ্রেপ্তারের খবর জানানো হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি।

আবদুল করিম ওরফে রাজীব ও দিয়া খানম ওরফে মিমআবদুল করিম ওরফে রাজীব ও দিয়া খানম ওরফে মিম 

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জাবালে নূরের যে তিনটি বাসের রেষারেষিতে এ ঘটনাটি ঘটে, সেগুলোর নিবন্ধন নম্বর হলো ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭, ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ এবং ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো ব-১১-৯২৯৭ নম্বর বাসের চাপায় মারা যায় দুই শিক্ষার্থী। এই বাসটি চালাচ্ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৬৫৭ নম্বর বাসের চালক ছিলেন জুবায়ের এবং ঢাকা মেট্রো ব-১১-৭৫৮০ নম্বরধারী বাসটির চালক ছিলেন সোহাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য, ২৯ জুলাই দুর্ঘটনার ক্ষেত্র তৈরি হয় তিনটি বাসচালকের রেষারেষির কারণে। এদের মধ্যে ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু আগে মাটিকাটা হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে উড়ালসড়কের ঢালুতে আড়াআড়ি করে বাস থামিয়ে ফেলেন চালক জুবায়ের। জুবায়ের তাঁর বাসটিকে ডান দিকে মুখ করে এমন করে থামান যেন অন্য কোনো যানবাহন তা অতিক্রম করতে না পারে। আড়াআড়ি করে মিনিট দু-এক সময় নিয়ে জুবায়েরের বাস থেকে যাত্রী নামানো হয়। বেশ কয়েকজন যাত্রী নেমে গেলে আবার যাত্রী তুলতে থাকেন বাসটির সহকারী কাজী আসাদ। এদিকে কুর্মিটোলা থেকে যাত্রী পাওয়ার আশায় মাটিকাটায় ২৩ ফুট চওড়া উড়ালসড়কে নিজেদের বাস নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করেন দুই চালক মাসুম ও সোহাগ। কিন্তু উড়ালসড়কের ঢালে আরেকটি জাবালে নূর বাস দেখতে পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে অতিক্রম করার চেষ্টা করেন মাসুম বিল্লাহ। তবে নিজের বাসের গতি আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি মাসুম। সরাসরি বাঁ দিকে ফুটপাতে বাসটি তুলে দেন তিনি। সেখানে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম, দিয়া খানমসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ