লালবাগ আওয়ামী লীগ

যত নেতা, তত গ্রুপিং

আওয়ামী লীগের লালবাগ থানা কমিটি দুই সদস্যের—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। শুরু থেকেই তাঁরা নানা বিরোধে মুখোমুখি অবস্থানে। চারটি ওয়ার্ড কমিটিতেও নানা গ্রুপিং। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, চার ওয়ার্ডের আট নেতা ছয় ভাগে বিভক্ত। আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির কারণে থানার

নেতা-কর্মীরা এখন বিভক্ত। নেতারা চলছেন নিজেদের ইচ্ছামতো।

২০১৬ সালের এপ্রিলে লালবাগ থানা ও এর অধীনে চারটি ওয়ার্ডে (২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬) দুই সদস্যের আংশিক কমিটি হয়।

এদিকে থানা ও ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার গুঞ্জন উঠেছে। এতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা বলছেন, গত প্রায় আড়াই বছরে থানা এবং ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে আছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজস্ব বলয়ের লোকদের রাখতে চেষ্টা করছেন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা।

বৃহত্তর লালবাগ থানার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে লালবাগের সভাপতির পদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া তিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয় ১৯৯৪ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে আসা মতিউর রহমান ওরফে জামালকে।

নেতা-কর্মীরা বলছেন, থানা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই গ্রুপে বিভক্ত। দুজনই নিজস্ব বলয়ের লোকদের নিয়ে রাজনীতি করেন। এতে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে ওয়ার্ড কমিটির নেতারাও বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যক্তিদের। তাঁরা বলছেন, ওয়ার্ডগুলোর দুই নেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব এতটাই প্রকট যে কেউ কারও মুখ পর্যন্ত দেখেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইয়ার মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুকের মধ্যে বিরোধ চরমে। তাঁদের মধ্যে ইয়ার মোহাম্মদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ূন কবিরের অনুসারী। তিনি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে হুমায়ূন কবিরের সঙ্গে অংশ নেন। আর গোলাম ফারুক নগরের দপ্তর সম্পাদক গোলাম রব্বানী বাবলুর ভাই। তিনি নিজের অনুসারীদের নিয়ে পৃথকভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

২৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইকরাম উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেনের মধ্যেও কোনো সমন্বয় নেই। এই দুই নেতার দুটি গ্রুপ আছে। যেকোনো কর্মসূচিতে দুজন পৃথকভাবে অংশ নেন। ২৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আবদুর রহমান ওরফে বাবলা ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ওরফে মানিক নিজেদের আলাদা বলয় তৈরি করেছেন। তবে ২৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি সেলিম আল মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মদ বিপুলের মধ্যে কিছুটা সমন্বয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের প্রবীণ এক নেতা বলেন, ‘নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখতে না পারলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের জন্য যে চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না। যেকোনো মূল্যে শিগগিরই নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। অন্যথায় আমাদের বিভেদ কাজে লাগিয়ে অন্যরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।’

থানার সাংগঠনিক অবস্থা ভালো এমন দাবি করে থানার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সমন্বয় নেই, এ বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে তাঁর সঙ্গে সবার সম্পর্ক ভালো। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যাঁরা বিগত আন্দোলন সংগ্রাম ও দুঃসময়ে পরীক্ষিত ছিলেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আর যাঁদের বিষয়ে আপত্তি আছে, তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হবে।

ওয়ার্ড নেতাদের মধ্যে সমঝোতা করার জন্য চেষ্টা করেছেন জানিয়ে থানার সভাপতি দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নেতৃত্ব নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।’ তিনি বলেন, কর্মসূচির সময় অনেকে আলাদা শোডাউন করার চেষ্টা করে। এতে দলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। কয়েকটি ওয়ার্ডের নেতাকে বলার পরও তাঁরা একসঙ্গে কর্মসূচিতে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ