নারী কর্মীদের লেবানন যেতে টাকা লাগবে না

  • লেবাননে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা
  • নীতিমালাটি বুধবার থেকে কার্যকর করা হয়েছে
  • এখন থেকে নিয়ম মেনে কর্মী পাঠাতে হবে
  • পুরুষ কর্মীর ব্যয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৮০ টাকা

লেবাননে যেতে নারী গৃহকর্মীদের টাকা লাগবে না। লেবাননে যাওয়ার আগে নারী গৃহকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি (জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান)। নারী গৃহকর্মী দেশটিতে যাওয়ার পর কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখে পড়লে তাঁকে দ্রুত আনার ব্যবস্থাও করতে হবে রিক্রুটিং এজেন্সিকে। লেবাননে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের করা নতুন নীতিমালায় এমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালায় লেবাননে যেতে ইচ্ছুক পুরুষ কর্মীর জন্য অভিবাসন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৮০ টাকা। যদি কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা দালাল এর চেয়ে বেশি টাকা নেন বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান, তবে তাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং এজেন্সির বিরুদ্ধে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, লেবাননে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দেশটির সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক নেই। যে কারণে লেবাননের শ্রমবাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই কর্মস্থল থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা পালিয়ে যাচ্ছেন। আবার কাজ না পেয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের অনেকে দেশটিতে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালাটি করা হয়েছে।

২৩ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে লেবাননে শ্রমিক পাঠানো সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে লেবাননের বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতিতে জানায়, মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত দূতাবাস আর কোনো চাকরির চুক্তিপত্র সত্যায়ন করবে না।

নতুন নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণসচিব নমিতা হালদার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, লেবাননের সঙ্গে কোনো চুক্তি না থাকায় দেশটিতে বাংলাদেশের কর্মীরা কোনো সমস্যায় পড়লেও তাঁদের জন্য কিছু করা কঠিন হয়ে পড়ে। লেবাননে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে একটি নীতিমালা হওয়ায় এখন কেউ চাইলেই সেখানে যেতে পারবেন না। এখন থেকে নিয়ম মেনে কর্মী পাঠাতে হবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে। তিনি বলেন, লেবাননে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সাময়িক যে স্থগিতাদেশ ছিল সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। নীতিমালাটি বুধবার (গতকাল) থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নীতিমালা অনুযায়ী লেবাননে যেতে ইচ্ছুক কর্মীকে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ডেটাবেইসে (তথ্যভান্ডার) নিজ নাম, ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। লাইসেন্স আছে এমন এজেন্সিকে বিএমইটির ডেটাবেইস থেকে কর্মী নির্বাচন করতে হবে।

নতুন নীতিমালায় নারী গৃহকর্মীর ক্ষেত্রে নিজের নাম, ঠিকানা, মুঠোফোন নম্বর পড়তে ও লিখতে জানতে হবে। তাঁর বয়স হতে হবে ২৫ থেকে ৩৮ বছর। ওই নারীর কনিষ্ঠ বাচ্চার বয়স (যদি থাকে) কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। অন্তত দুই বছর বিদেশে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে। লেবানিজ ভাষায় সাধারণ যোগাযোগে সক্ষম হতে হবে। কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারার দক্ষতা থাকতে হবে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ হাজার কর্মী লেবাননে পাঠিয়েছে। গত বছর লেবাননে গিয়েছিলেন সাড়ে আট হাজার শ্রমিক।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দালালেরা লেবানন যেতে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে নিচ্ছেন। গৃহকর্মী হিসেবে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই নির্যাতিত হচ্ছেন। মাস না পেরোতেই তাঁরা কাজ ছেড়ে পালিয়ে যান। অনেকে লেবানন যাওয়ার দু-এক মাস যাওয়ার পর দূতাবাসে যোগাযোগ করে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানান। এ অবস্থায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব লেবানন সফর করেন এবং দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপরই সরকার দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য নীতিমালা করার উদ্যোগ নেয়।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ