চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে হবে ৬ লেনের ৪ সেতু

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে চকরিয়া মাতামুহুরী সেতু, চন্দনাইশের বরগুনি সেতু, দোহাজারী সাঙ্গুসেতু, পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু ৪ লেনের পরিবর্তে ৬ লেনে নির্মাণ করা হবে। সেতুগুলির নতুন ডিজাইনচূড়ান্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের এ ৪টি সেতু ৬ লেনে নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলেজানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মাতামুহুরী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলাপ্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ২০ কোটি টাকার চেক জমা হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রাম জেলাপ্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায়ও চেক জমা হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষারঅবসান হতে যাচ্ছে ২ জেলার বাসিন্দাদের। সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কেরমাতামুহুরী সেতুটি ক্রস বর্ডার কানেকটিং প্রজেক্টের আওতায় নেয়ার জন্য ৪ লেনের পরিবর্তে ৬ লেনেরডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। একইভাবে অপর ৩টি সেতুও ৬ লেনে নির্মাণ করা হবে। ১৫০ কি.মি. দীর্ঘদুই লেনের চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে সেতু হচ্ছে ৬ লেনের। দুই লেনের মহাসড়কে ৫০ কি.মি. দীর্ঘ এলাকায় সড়কের চওড়া দেড় লেনের। বর্তমানে মহাসড়কের চওড়া কম হলেও কক্সবাজারের সাথেযাতায়াত ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে মহাসড়কের ৪টি সেতুকে ৬ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। ক্রস বর্ডার নামেরএ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেকে ৪ লেনের অনুমোদন পেলেও সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে ৬ লেনে উন্নীতকরে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী পর্যন্ত দেড়লাইন, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুই লেনের সড়কটি ৬ লেনে সেতু নির্মাণ ক্রস বর্ডারপ্রকল্পের অংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারের ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। তাই এ শহরেরসাথে দেশের অন্যান্য এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। এজন্য ৪টি ব্রিজকে ৬লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

জাইকার অর্থায়নে ক্রস বর্ডার প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ১৭টি সেতু, ৭টি কালভার্ট, ২টি এক্সেললোড নিয়ন্ত্রণ স্টেশন, এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ৪টি সেতু নির্মাণ, বারৈয়ারহাট–হেঁয়াকো–রামগড় আঞ্চলিক মহাসড়কে৮টি সেতু, ৭টি কালভার্ট, রামগড়ে ১টি এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ। সড়ক ও জনপথ বিভাগসূত্রে জানা যায়, ২ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০১৬ সালে একবার একনেকে অনুমোদনপেয়েছিল। কিন্তু তখন এ প্রকল্পে সেতুগুলো ছিল ৪ লেনের। পরবর্তীতে প্রকল্প সংশোধন করে ৬ লেনেউন্নীত করে মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি আকারে পাঠানো হয়। এতে প্রায় পৌণে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচবেড়ে যায়। প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেলে আগামী অক্টোবর মাসে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরাজানান। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক হিসেবে বিবেচিত রয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন অংশেগর্ত থাকায় প্রস্থ সংকুচিত হওয়ার পাশাপশি অনেকগুলো বাঁকও রয়েছে। কক্সবাজারের সাথে যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করতে মহাসড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। সেইসাথে রেললাইনপ্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলেছে। অন্যদিকে বহদ্দারহাট থেকে পটিয়া ওয়াই জংশন পর্যন্ত সড়কটি ৬লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ