কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ

আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও সুদহার কমাতে হবে

জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুদে শিল্পের মেয়াদি ঋণ বিতরণ করেছে বেশিরভাগ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে বেশিরভাগ ব্যাংক এ খাতে সুদ নিয়েছে ৯ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদে। এর কয়েক মাস আগে ব্যাংকগুলো ১০ শতাংশের কম সুদে ঋণ বিতরণ করেছিল। ব্যাংকে সুদহারের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত বুধবার ব্যাংকগুলো আগামী ১ জুলাই থেকে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ ও ৬ শতাংশ সুদে আমানত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় লিজিং কোম্পানি নামে পরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদহার কমবে কি-না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সুদহার কমাতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির অনির্ধারিত একটি বৈঠক করেন। একই দিন সকালে গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির বৈঠকে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও যাতে সুদের হার কমায়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। বিএলএফসিএর সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহার কমানোর পরামর্শ দেন। এ জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে নিজেরা বসে সুদহার ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে গভর্নর সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং সংস্কার উপদেষ্টা এস কে সুর চৌধুরী সমকালকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা ব্যাংকের পর্যায়ে সুদহার নিয়ে আসতে পারবে না। তবে বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব প্রতিষ্ঠানের সুদহার কমাতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ঘোষণার আলোকে সুদহার কার্যকর হচ্ছে কি-না, বাংলাদেশ ব্যাংক তা দেখবে।

জানতে চাইলে বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খলিলুর রহমান সমকালকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সুদহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন এ বিষয়ে তারা উদ্যোগ নেবেন। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ব্যাংক থেকে। ফলে ব্যাংকগুলো যে সুদে ঋণ দেয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য তা আমানতের সুদ। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠান চাইলেও সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দিতে পারবে না। তবে বর্তমানের তুলনায় কমবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। আর ঋণ বিতরণ করেছে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদে। একই মাসে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। আর ঋণ বিতরণ করেছে গড়ে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ সুদে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান-সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে চলতি, সঞ্চয়ী, মেয়াদিসহ বিভিন্ন ধরনের আমানত নিতে পারে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তিন মাসের কম মেয়াদে কোনো আমানত নিতে পারে না। আবার ব্যাংকের তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি কম হওয়ায় আমানত সংরক্ষণে গ্রাহকরা তেমন আগ্রহ দেখান না। ফলে ব্যাংকের তুলনায় বেশি সুদ দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী আমানত না পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহে ধরনা দিতে হয় ব্যাংকে। আমানতের পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হয়। বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট আমানতের ২৩ শতাংশের মতো আসে ব্যাংক থেকে। আবার ব্যাংকের চেয়ে আমানতের গড় সুদহারও তুলনামূলক বেশি। ফলে ব্যাংকের তুলনায় সব সময় এসব প্রতিষ্ঠানের সুদহার বেশি থাকে।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ