প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী বিএনপি

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহী বিএনপি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রভাবশালী প্রতিবেশী ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন দলটির নেতারা। পাশাপাশি আরও কিছু কৌশল নির্ধারণ করতে আজ সোমবার বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

আগামীতে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি আদায়ে এসব প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থার ‘ইতিবাচক’ ভূমিকা আশা করছে বিএনপি হাইকমান্ড।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে কারারুদ্ধ চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন। শুভাকাঙ্ক্ষী প্রভাবশালী বিদেশি বন্ধুরাও দলটির নীতিনির্ধারকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপিও আর গত নির্বাচন বর্জনের মতো ‘ভুল’ করতে চাইছে না।

তবে নির্বাচনের আগেই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করতে চাইছে তারা।

এ বিষয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের প্রধান ও দলের সহসভাপতি ড. ইনাম আহমেদ চৌধুরী সমকালকে জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন অনুপস্থিত। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে আগামী নির্বাচনে যাতে সব দলের অংশগ্রহণে এবং ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়, সে জন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।

সাবেক এই কূটনীতিক আরও জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তারা তাদের এ অবস্থান পরিস্কারভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে বিএনপি একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আদর্শগত কোনো সম্পর্ক নেই।

আন্তর্জাতিক উইং সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ইত্যাদি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভোটের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ভারতবিরোধী বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছে। বাস্তবতা বুঝতে পেরে বিএনপি এ অবস্থা থেকে সরে আসছে। সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সহসভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সমন্বয়ে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারত সফরকালে তা পরিস্কার করে আসার চেষ্টা করেছে।

ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুসম্পর্ক ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নতুন নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সমর্থক সাবেক কূটনীতিক ও আমলাদেরও সক্রিয় করা হচ্ছে। কোনো কোনো দেশের ক্ষেত্রে লবিস্টও নিয়োগ করা হচ্ছে। সর্বোপরি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের নীতিনির্ধারক নেতারা নিয়মিত ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্যরা সরকারের ভূমিকা, আইন-শৃঙ্খলাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও লিখিতভাবে জানাচ্ছেন ঢাকার কূটনীতিকদের। সিনিয়রদের পাশাপাশি দলের দু’জন তরুণ নেতাকেও এ কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন- দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

বিএনপির আন্তর্জাতিক উইংয়ের সদস্য সচিব ও দলের বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন সমকালকে বলেন, একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সব সময়ই পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছে। তারা আশা করেন, গণতন্ত্র চর্চা এবং আইনের শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই দেশগুলো আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ