‌নির্বাচনের আগে সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে: ফখরুল

একাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের আগে সরকারকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করে নির্বাচন করতে হবে। অন্যথায় দেশে নির্বাচন হবে না।

রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একেবারে অথর্ব, এই সরকারের বংশবদ কমিশন। এরা একটি নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে না। কথায় কথায় সরকারি দলের ধমকের মধ্য দিয়ে যারা আইন পরিবর্তন করে, সেই নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই বাতিল করে দিয়ে পূনর্গঠন করতে হবে। তা না হলে এখানে কোনো নির্বাচন হবে না। যারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করতে পারে তাদেরকে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের এই শাহাদাৎ বার্ষিকীতে তাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে- গণতন্ত্রকে রক্ষা করবার জন্যে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবার জন্যে, মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনবার জন্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আনতে হবে এবং সেই আন্দোলনে অবশ্যই এই জাতিকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রয়াত রষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি খালেদা জিয়াকে একটি মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এই আইন আদালতের মাধ্যমে দেশনেত্রীর মুক্তি সম্ভব নয়। তার মুক্তিন জন্য যে ধরণের আন্দোলন করছি, এই ধরণের আন্দোলনের মধ্যে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেজন্য সকলে প্রস্ততি নিন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সকল মানুষ জানে দেশে একদলীয় শাসন চলছে। এই একদলীয় শাসনের অবসান করতে হলে তিনটা এজেন্ডা আছে। প্রথমত: খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তার মুক্তি ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। দ্বিতীয়ত: ২০ দলীয় জোট ছাড়াও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক শক্তিসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বিএনপিকে ত্যাগ স্বীকার করে হলেও ঐক্য আনতে হবে। তৃতীয়ত: এই জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশে গণআন্দোলন হবে এবং সেই গণআন্দোলনের মুখে সরকার বাধ্য হবে দেশে আগামী নির্বাচন একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠান করার জন্য। সেই সরকার হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এখন অন্যকোনো সরকারের কথা বলে লাভ নেই।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ