সড়কের কাজের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে: কাদের

ঈদ সামনে রেখে সারা দেশের সড়ক, মহাসড়কে উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করার জন্য চলছে তোড় জোর। এরই মধ্যে মহাসড়ক নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য গতকাল সোমবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়েছিলেন। সেই পোস্টের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবারও মহাসড়ক নিয়ে আরেকটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সারা দেশের সড়ক মহাসড়কের জরুরি মেরামতকাজ ৮ জুনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কগুলোতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অধিকতর ভালো। তিনি বলেন, ‘তবে মন্ত্রী হিসেবে বলব, দেশের সর্বত্র যে চিত্র তাতে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। সড়ক সংস্কারের চাহিদার বিপরীতে যে বরাদ্দ পাওয়া যায় তা দিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা সড়কের মেরামত ও সংস্কার কাজ করতে হয়। এতে কিছু কিছু সড়ক কাভারেজের বাইরে থেকে যায়। এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, দেশের সড়ক নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মান উন্নয়নের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের লিখেছেন, জনগণের নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ঘরেফেরা নিশ্চিত করতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সজাগ। এ বছর রমজানের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। সকল স্টেক-হোল্ডারদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এবার সমন্বয় সভাগুলো মাঠ পর্যায়ে করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভূলতা, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর এবং ফেনীতে চারটি সমন্বয় সভা হয়েছে। এ সকল সভায় জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, থানা-পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণ ছিল।

বড় দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার রাখার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যানজট ও দুর্ভোগ এড়াতে সেতুগুলোর টোল আদায়কারী সকল বুথ চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখা হবে। দ্রুত টোল আদায় করতে যানবাহনের মালিক ও চালকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ টোলের অর্থ হাতে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ফেরিঘাটে গাড়ি পারাপারে অতিরিক্ত ফেরি মজুত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু সেতু, মেঘনা সেতু ও গোমতী সেতুসহ দুর্ঘটনা প্রবণ স্থানে রেকার ও ক্রেন রাখার জন্য বলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত বড় ধরনের দুর্ঘটনা পরবর্তী দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনায় হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলছেন, আসন্ন ঈদের আগের চার দিন এবং পরের চার দিন চব্বিশ ঘণ্টা সারা দেশের সিএনজি স্টেশনগুলো খোলা থাকবে। ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, কাঁচা চামড়া এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

যানজট কমানোর বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদের সময় যানজট এবং অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এলাকাভিত্তিক গার্মেন্টসগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া এবং খোলার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-কে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাস টার্মিনাল এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে এবং সড়কপথে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমার, মলমপার্টি ও অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ সজাগ থাকবে। মহাসড়কে যানবাহনের গতি অব্যাহত রাখতে ঈদের আগের সাত দিন এবং পরের সাত দিন সুনির্দিষ্ট পূর্ব তথ্য ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়কের ওপর মোটরযান থামাতে পারবে না। কোনোভাবেই ঈদযাত্রায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া যাবে না। ঢাকা মহানগরীতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানো হবে। সড়ক, মহাসড়কের যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলছেন, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। ২২টি জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং নন-মোটরাইজড্ যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি আরোহী থাকবে না। প্রত্যেক আরোহীকে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ঘাটে (সেতু সংলগ্ন) বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। চলছে জরুরি ভিত্তিতে ঘাট মেরামতের কাজ। আশা করা যায় এ ঘাট ঈদের এক সপ্তাহ আগেই প্রস্তুত হয়ে যাবে।

এরপর সারা দেশে সড়ক, মহাসড়কে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিষয়ে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সেখানে তিনি কোথায় কত কিলোমিটার সড়কের কাজ হচ্ছে, কতটি কালভার্ট, সেতু, ওভারপাস, আন্ডারপাস, পদচারী সেতু, বাস থামানোর জায়গা, বাইপাস এবং সড়ক প্রশস্ত করার কাজ চলছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ