প্রধানমন্ত্রীকে ফখরুল

সৌহার্দ্যের কথা না বলে সমস্যার কথা তুলুন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে কেবল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা না বলে দেশের সমস্যার সমাধান করুন। তিনি বলেন, শুধু সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করা বললে দেশের মানুষ তা মেনে নিতে পারবে না।

রাজধানীর একটি হোটেলে আজ শনিবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) আয়োজনে ইফতার অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। রাজনীতিবিদদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের সমস্যার কথা না বলে শুধু সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করবেন, এটা তো দেশের জনগণ মেনে নিতে পারবে না। দেশের মানুষ আশা করে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার কথা বলবেন। তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাশ কাটিয়ে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টি জনগণ মেনে নেবে না।

গতকাল শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিও সেখানে ছিলেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে মন্তব্য করেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে প্রধানমন্ত্রী সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলেছেন। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য তাহলে কি আমরা আমাদের যে বাঁচা-মরার সমস্যা, আমাদের যে পানির সদস্যা, ১৫৮টি নদীর হিস্যা প্রয়োজন—সেসব সমস্যা কি আমরা ভুলে যাব? তিনি আরও বলেন, আমাদের কোটি কোটি মানুষ এই তিস্তা নদীর অববাহিকায় অথবা অন্যান্য নদী যা ভারত থেকে বয়ে আসছে তার অববাহিকায় যারা বাস করে তারা কি সুরাহা পাবে না? তাদের জীবন-জীবিকা কি বন্ধ হয়ে যাবে?’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক তাঁর দলও চায়। তবে সেই সম্পর্ক তো হতে হবে সম্পূর্ণ পারস্পরিক স্বার্থ নিয়ে। আমার স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে অন্যের স্বার্থ পূরণ করা তো আমার কাজ নয়। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে শুনে আসছি, আওয়ামী লীগ এসে গেছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের চুক্তি হয়ে যাবে। আজ পর্যন্ত হয়নি। সীমান্তে আমার লোককে পাখির মতো হত্যা করা হয়। সেই ব্যাপারটি এখনো বন্ধ করতে পারেননি।

রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রথমেই চীন ও ভারতের সঙ্গে কথা বলা উচিত ছিল। এসব সমস্যা নিয়ে কথা বলুন। এটাই সবাই চায়। যখন দেশের বাইরে দেশের প্রতিনিধি হয়ে যান এ দেশের মানুষ আশা করে, তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ প্রমুখ ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ইফতারে সভাপতিত্ব করেন এনপিপির সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এ ছাড়া ইফতারে জামায়াতে ইসলামসহ বিএনপির শরিক দলের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ