চ্যালেঞ্জে আ.লীগ, আশাবাদী বিএনপি

আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-২ আসন। একসময় ‘বিএনপির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে ২০১৪ সালের আগে জয় পায়নি আওয়ামী লীগ। সব কটিতেই বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থীরা। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ বনে যান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আসনটি ধরে রাখা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর আসনটি পুনরুদ্ধারে আশাবাদী বিএনপি।

এই অবস্থায় সংসদ নির্বাচন ঘিরে একাধিক প্রার্থী দেখা যাচ্ছে দুই দলেই। পাশাপাশি শরিক দলের নেতারাও প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সফলতা পেলেও মনোনয়ন নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে দলীয় কোন্দল। কোন্দল রয়েছে বিএনপিতেও।

এই আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৭৬। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির প্রার্থীরা টানা সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সাংসদ হন দলের প্রার্থী আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান। পরবর্তী সময়ে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিতে (এলডিপি) যোগ দেন। এতে কপাল খুলে যায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা গোলাম মোস্তফার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে আবু সাঈদ আল মাহমুদকে হারিয়ে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে ভোটের পার্থক্য ছিল ৩ হাজার ১৫৯।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিআর-কাবিখা নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ২০১৪ সালের আগে নির্বাচিত বিএনপির দুই সাংসদই সমালোচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ টিআর-কাবিখা বিতরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনেন। এ ছাড়া তিনি নির্বাচনী এলাকার তিনটি উপজেলায় দৃশ্যমান উন্নয়ন করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা ও স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে বিএনপি। গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিন উপজেলার ১৫টি ইউপির মধ্যে ১৩টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। তিনটি পৌরসভাতেই মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হন। তিনটি উপজেলা পরিষদের মধ্যে আক্কেলপুর ও ক্ষেতলালে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হলেও পদ হারানোর ভয়ে তাঁরা দলীয় কর্মকাণ্ডে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী আবু সাঈদ আল মাহমুদ। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলীও মনোনয়ন চাইবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই দুজনের বাইরেও অনেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী। সম্প্রতি কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনফুজুর রহমান এবং দুটি ইউপির চেয়ারম্যানকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জয়পুরহাট-১ আসনের সাংসদ শামছুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম সোলায়মান আলীর বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। আবু সাঈদ আল মাহমুদের অনুসারী ওই নেতা-কর্মীরা এলাকায় তাঁদের অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করেন।

কোন্দলে পিছিয়ে নেই বিএনপি। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মোস্তফা সাংসদ থাকাকালে তিনটি উপজেলায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে গোলাম মোস্তফার পাশাপাশি মনোনয়ন চাইবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ওবাইদুর রহমান ও আলী হাসান মুক্তা, ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল ও ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রওনকুল ইসলাম চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির আবুল কাশেম, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ারুল হক এবং জাসদের জেলা কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের মো. সাখাওয়াত হোসেনও নির্বাচন করতে চান। বিএনপির শরিক জামায়াত এই আসনটিতে আগাম প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদুল আলম বলেছেন, জামায়াত থেকে তাঁকেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

আক্কেলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোকছেদ আলী মাস্টার বলেন, ‘সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদ দলীয় মনোনয়ন পাবেন—আমরা এটা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। তাই কোন্দল থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

এস এম সোলায়মান আলী বলেন, তিনি দলের প্রধান শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন চাইবেন। মনোনয়ন পেলে তাঁকে আসনটি উপহার দেবেন। তবে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, সবাই তাঁর পক্ষে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল। শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলের যে কেউই মনোনয়ন চাইতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেকে জনগণের চাকর মনে করেছি, কখনো এমপি সাহেব নয়। এলাকায় শতভাগ বিদ্যুৎ-ব্যবস্থার আওতায় এনেছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণ এবং রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কাজেই আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।’

জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, জয়পুরহাট-২ আসনটিতে বরাবরই বিএনপি জয়ী হয়েছে। ‘ভোটবিহীন নির্বাচনে’ এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ