ঢাকায় ২০ কিলোমিটারে ১০০ টাকা ভাড়া!

  • রামপুরা হয়ে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুরে এসি বাস নামছে।
  • প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা করে।
  • এসি বাসের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করে না।
  • মালিকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া ঠিক করেন।
  • পকেট কাটা যায় যাত্রীসাধারণের।

মতিঝিল থেকে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ হয়ে আবদুল্লাহপুরের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। এই রুটে দুটি পরিবহনের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চলে, ভাড়া যথাক্রমে ৬০ ও ৬৫ টাকা। মতিঝিল থেকে রামপুরা ডিআইটি সড়ক হয়ে আবদুল্লাহপুরে নতুন আরেকটি এসি বাস চালু হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল থেকে। এই রুটে দূরত্ব ২ কিলোমিটার কম। কিন্তু ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। ফলে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া পড়ছে ৫ টাকা করে। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ হয়ে চলা এসি বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৭২ পয়সা।

বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী সরকার-নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা। তবে এটা সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে। এসি বাসের কোনো ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করে না। ফলে মালিকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া ঠিক করেন। এতে পকেট কাটা যায় যাত্রীসাধারণের।

গত মঙ্গলবার মতিঝিল-রামপুরা-বাড্ডা-কুড়িল বিশ্বরোড-আবদুল্লাহপুর রুটে ‘গ্রিন ঢাকা’ নামে ৩০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা
হয়। নতুন এই বাসটিতে সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০। অর্থাৎ আবদুল্লাহপুর বা মতিঝিল থেকে উঠে পথে যেকোনো জায়গায় নামলেই ৬০ টাকা
দিতে হবে। কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ দিয়ে চলা বর্তমান রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪০ টাকা। অথচ এই রুটে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুরের দূরত্ব ২ কিলোমিটার বেশি।
কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ হয়ে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর রুটে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিসি) বাসে ভাড়া ৬০ টাকা। আর ওমামা ইন্টারন্যাশনাল নামের এসি বাসে ভাড়া ৬৫ টাকা।
জানতে চাইলে গ্রিন ঢাকা লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. মন্টু মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসি বাস অনেক বেশি আরামদায়ক। দামও সাধারণ বাসের
চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। সরকারকে ভ্যাটও বেশি দিতে হয়। রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেশি। যানজটের কারণে দিনে একটি বাস চারটির বেশি ট্রিপ দিতে পারবে না। সবকিছু হিসাব করে আমরা ১০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছি।’

মন্টু মিয়া গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় চলাচলকারী ‘ঢাকা চাকা’ নামে বিশেষ বাসসেবা ঢাকা চাকা লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই বাসগুলো থেকেও তিনি তিন গুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে। এ ছাড়া শহরে চলাচলকারী ভূঁইয়া পরিবহন প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্বাধীন এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ও এম/এস ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মন্টু মিয়া। দুটি রুটে চলাচল করে স্বাধীন পরিবহন।

জানতে চাইলে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘মতিঝিল থেকে আবদুল্লাহপুর ১০০ টাকা ভাড়া অনেক বেশি। সাধারণ বাস থেকে এসি বাসের ভাড়া কত বেশি হবে, সেটা বিআরটিএকে নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিআরটিএ সাধারণ বাসের জন্য যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, চালকেরা সেটি মানছেন না। বিআরটিএ সেখানেও কিছু করছে না।
দিনে দিনে ঢাকায় এসি বাস বাড়ছে। কিন্তু বিআরটিএ এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা না করায় মালিকেরা ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করছেন। এতে গণপরিবহন খাতে অরাজকতা আরও বাড়ছে।

যাত্রী বা ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার বা বিআরটিএর আন্তরিকতার অভাবেই ঢাকা মহানগর এলাকায় গণপরিবহন খাতে নৈরাজ্য চলছে। এতে একদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। তাই নতুন করে যেসব এসি বাস নামছে, তাদের জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করে দিতে হবে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণে আইনগত জটিলতা আছে। অনেক দিন ধরে বিআরটিএর আইনে সংশোধন বা সংযোজনের কাজ চলছে। আশা করি, শিগগির সেটি চূড়ান্ত করতে পারব। তখন এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।’

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ