এলডিসি থেকে উত্তরণ, সম্ভাবনার সাথে বাড়বে চ্যালেঞ্জ

চিরেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হতে চলেছে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের শর্ত অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে। এটা জাতির জন্য খুশির খবর। তাই সামনের এই ছয় বছর এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের পর কতকগুলো চ্যালেঞ্জ আসবে, সেগুলো মোকাবিলার প্রস্তুতি এখনই শুরু করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গেল মাসের মাঝামাঝি সময়ে জাতিসংঘের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের শর্ত অর্জন করতে পেরেছে।
স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য তিনটি সূচক বিবেচনা করা হয়।

সূচকগুলো হলো— তিন বছরের গড় মাথাপিছু জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক, যাতে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, স্কুলে ভর্তি ও শিক্ষার হারের সমন্বয়ে তৈরি হয় এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক, যেটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক আঘাত, জনসংখ্যার পরিমাণ এবং বিশ্ববাজার থেকে একটি দেশের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।

এই তিনটি সূচকের যেকোনো দুটিতে সিডিপির নির্ধারিত মান অর্জন করতে হবে।

সিডিপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই নির্ধারিত মান অর্জন করেছে।

অর্জিত এই সূচকের ধারা আরও ছয় বছর বজায় থাকলে ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হবে।
যা জাতির জন্য সন্মানের গৌরবের।

এব্যাপারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ও গবেষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাফল্যের অর্জনের সাথে সাথে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আসবে। যা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সব ক্ষেত্রে শুল্কসুবিধা উঠে যাবে। সেই সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারলে আমরা বাজার হারাবো। এখন এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ যে সুবিধা পায় স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে তা আর পাবো না। আর এর জন্য ঘানি টানতে হবে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের।

এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে আমাদের জাতীয় মর্যাদা। এ মর্যাদা আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জন করেছি, এটি কারও দয়া-দাক্ষিণ্য নয়।

তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলো যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, এ উত্তরণের ফলে তার কিছু কিছু হয়ত আমরা হারাব, কিন্তু আমাদের এখন সামনের দিকে তাকাতে হবে, যাতে সাহায্যের বদলে আমরা নিজেরাই কিছু করতে পারি। এ জন্য আর্থ-সামাজিক খাতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওয়ার ঘোষণার সাথে সাথে আমাদেরকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি বলেন, এজন্য দেশে বিনিয়োগের হার আরও দ্রুত বাড়াতে হবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন দ্রুত চালু করতে হবে। সমুদ্র সম্পদ, কৃষিখাত, শিল্পায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়িয়ে আরও দক্ষতার অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আমাদের অর্থনীতির উত্পাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, বৈষম্য, দারিদ্র্য, মানবসম্পদের অদক্ষতা, অর্থনৈতিক শাসন-ব্যবস্থার দুর্বলতা মোকাবিলায় সরকারকে আরও পারদর্শী হতে হবে।
তিনি বলেন, উপযুক্ত দক্ষ জনশক্তি তৈরির কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি স্বল্প খরচে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে হবে।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ