প্রশ্ন ফাঁস চক্রের কৌশল ফাঁস

পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত হতে রেজিস্ট্রেশনের কপি নেয়া হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক: ২ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পেজ/গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ ও পরীক্ষার শৃঙ্খলতা বজায় রাখতে এরইমধ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারফত জানা গেছে, প্রশ্নপত্র নিতে আগ্রহী সক্রিয় গ্রুপ সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিত হতে প্রশ্ন ফাঁসকারীরা পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের কার্ডের কপি নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন পেজ/গ্রুপে নজরদারি রাখা আনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে চলে যাচ্ছে সেসব পরীক্ষার্থীর পরিচয়। জানা গেছে, তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের পরিচয়ের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এতে তাদের এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁসকারী গ্রুপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় থেকে গ্রুপ এডমিন ও সক্রিয় শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে HSC All Exam 100% Out Question & suggestion 2018, সকল বোর্ড পরীক্ষার আগের রাতের ফাঁসকৃত সাজেশন ২০১৬ নেট২৪.কম, ফাঁস হওয়া প্রকৃত প্রশ্ন পত্র ব্যাংকসহ বিভিন্ন ফেসবুক পেজ। উল্লেখ্য, ফেসবুকের পারসোনাল আইডি থেকেও কিছু প্রতারক রেজিস্ট্রেশনের কপি চেয়ে প্রশ্নপত্র প্রদানে শতভাগ নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এমন খবরের ভিত্তিতে আইডিগুলোতেও নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ধারণা করা হচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ, ইমো, ভাইবারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে প্রতারক চক্র সতর্কতা অবলম্বন করতে কেবল পরীক্ষার্থীদের শনাক্ত করতে নতুন কৌশল অবলম্বন করে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ভিত্তিতে পরিচয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।

এদিকে প্রতারক চক্রকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কিছু প্রকৃত পরীক্ষার্থীর সহযোগিতা নিচ্ছে। কেননা প্রতারক চক্র তাদের নিরাপত্তার খাতিরে স্বয়ং পরীক্ষার্থী ছাড়া কারো সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে না। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা নিরাপদ অবস্থানে থাকতে চাইলেও তাদের পক্ষে তা সম্ভব হবে না বলেই প্রতিয়মান হচ্ছে।

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতা থেকে সন্তানদের বিরত রাখতে অভিভাবকদেরও সাবধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজের সন্তান যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী গ্রুপ/পেজের সঙ্গে জড়িত থেকে শাস্তির আওতায় না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। কেননা প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতায় যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্তানের সংশ্লিষ্টতা পায় তবে সন্তানের পাশাপাশি ওই অভিভাবকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ