নির্বাচনের আগে মুক্তির সম্ভাবনা নেই বেগম জিয়ার

কারাগারেই থাকতে হচ্ছে বেগম জিয়া, নির্বাচনের আগে মুক্তির সম্ভাবনা নেই বেগম জিয়ার। ৮ মে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগ হলো সর্বোচ্চ আদালত। অন্য মামলাতে তাঁর জামিন বা অন্য কোনো আদেশ হলেও তা বেগম জিয়ার কারাভোগে কোনো প্রভাব পড়বে না। ৮ মে পর্যন্ত বেগম জিয়াকে কারাগারে থাকতেই হবে। এর আগে কোনোভাবেই তাঁর জামিনে মুক্তি সম্ভব না।

আর জিয়া চ্যারিটেবল মামলার শুনানিও শেষ পর্যায়ে। এটিও যেকোনো মুহূর্তে সম্পন্ন হয়ে যাবে। ৮ মে’র মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলারও রায় হয়ে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।

আর এই মামলায়ও বেগম জিয়ার কারাদণ্ডের সম্ভাবনা জোরালো। কারণ জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলারই ধারাবাহিকতা হলো চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। অরফানেজ মামলায় যেহেতু বেগম জিয়ার দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডিত হয়েছেন, তাই চ্যারিটেবলেও দুর্নীতি প্রমাণিত হয়ে দণ্ডিত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হলেও এর জামিনের জন্য আবার অরফানেজে দণ্ডিতে হয়ে কারারুদ্ধ হয়ে যে প্রক্রিয়া বেগম জিয়ার জামিন হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করতে হতে পারে। চ্যারিটেবলের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবার দেড়মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। আবার হাইকোর্টে যেতে হতে পারে। সেখানে অপেক্ষার পর আবার যেতে হতে পারে আপিল বিভাগে। সেখানে আবার তাঁকে তিনমাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর মধ্যে হয়তো বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাও আদালতে চলে আসতে পারে।

তাই নির্বাচনের আগে বেগম জিয়ার মুক্তি কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না, যদি না কোনো সমঝোতায় মুক্তি হয়। এখন বেগম জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথই হলো সমঝোতা। এরই মধ্যে বেগম জিয়ার সঙ্গে পাঁচ দফা সমঝোতা প্রস্তাবের একটি খসড়ার কথাও জানা গেছে।

১. জামিন পেয়ে বেগম জিয়া বেরুবেন এবং চিকিৎসার কারণে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য লন্ডনে যাবেন।

২. বিএনপির নেতৃত্বে থাকলেও বেগম জিয়া বা তারেক জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

৩. বিএনপি জিয়া পরিবার ছাড়া একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলের নেতৃত্ব দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচন হবে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ।

৪. নির্বাচনের আগে আটক বিএনপির নেতা কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হবে। দলের সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো আপাতত: বন্ধ থাকবে। নতুন কোনো মামলা বা হয়রানি করা হবে না।

৫. নির্বাচনের পর বেগম জিয়া দেশে ফিরবেন। তাঁর ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলেও পর্যাপ্ত সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হবে।

বেগম জিয়ার শুধু মুক্তির পথ বেরিয়ে আসতে পারে যদি দুই পক্ষ থেকে উল্লিখিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে সমঝোতা হয়। এই সমঝোতা কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে এর ওপরই নির্ভর করছে বেগম জিয়ার মুক্তি। সমঝোতা না হলে বেগম জিয়ার মুক্তির নির্বাচনের আগে হচ্ছে না তা অনেকটাই নিশ্চিত।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ