‘সেই নৌকা এখন আকাশে উঠেছে’

বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের নেতাদের গ্রেফতার করুন, নির্যাতন করুন, কোনো অসুবিধা নেই। শুধু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দিন, দেখবেন ভোট বিপ্লব ঘটে গেছে।’তিনি শুক্রবার বেলা ১১টায় নগরীর কেডিঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। শনিবার বিকেল ৩টায় দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের মিছিল করতে বাধা দেয়া হয়। জনসভা করতে বাধা দেয়া হয়। স্লোগান দিতে বাধা দেয়া হয়। লিফলেট বিলি করতে গেলে গ্রেফতার করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আপনাদের উপর নির্ভর করি। এক সময় বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেই স্বাধীনতা জিয়াউর রহমান ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, এক দল সরকারি টাকায় গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে, হেলিকপ্টারে করে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী জনসভা করে বেড়াচ্ছে। আরেক দলের নেতা কারাগারে আবদ্ধ। তার দলের নেতাকর্মীরা নেত্রীর মুক্তি এবং একটি অংশগ্রহণ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধমূলক একটা সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন।

এতকিছুর পরেও আমরা বলতে চাই, যত পারেন আমাদের নেতাকর্মীদের অত্যাচার করেন। শুধুমাত্র নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচন দিন। জনগণ যদি শুধু ভোট দিতে পারে দেখবেন ভোটের বাক্সে বিপ্লব ঘটে যাবে।তিনি বলেন, এখন চলার পথে দেখছি রাস্তাঘাটের ওপর নৌকা উঠেছে, মোড়ে মোড়ে নৌকা টানিয়ে রাখা হয়েছে। আজকাল নদী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নদীতে পানি নেই। পদ্মা নদীতে পানি নেই। প্রমত্তা তিস্তাতেও পানি নেই। নদীতে নৌকা চলার অবস্থা নেই। সেই নৌকা এখন আকাশে উঠেছে।

তিনি বলেন, গত মাসের ২৬ তারিখে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি শহীদ হাদিস পার্কে আমরা জনসভা করার অনুমতি নিই। এখন শুনছি আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গসংগঠন সেখানে সভা ডেকেছে। তারা পায়ে পা দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এখন পুলিশ বলছে, হাদিস পার্ক কেন আশপাশের রাস্তাতেও সমাবেশ করা যাবে না। তারা আসলে ১০ তারিখে সভা করতে চায় নাই। তারা আসলে আমাদের সমাবেশ নষ্ট করতে চেয়েছে। তারা সরকারে আছে, তাই সরকারের সহযোগিতায় তারা এই অপকৌশল কাজে লাগিয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির নির্দেশ অনুযায়ী আমরা সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আসছি। আমরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা দিচ্ছি না। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলার ধারে কাছেও যাচ্ছি না। এটা আমাদের দুর্বলতা নয়। আমরা এখন দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তাতেই সভা করব। আমরা আশা করছি আমাদের লোকদের গ্রেফতার করা হবে না। সভায় আসতে বাধা দেয়া হবে না।

সভায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বিএনপিসহ ২০ দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়েছে। আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা।উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান, সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, তারিকুল ইসলাম, ফকরুল আলম, শেখ মোশাররফ হোসেন, মাহবুব কায়সার, আজিজুল হাসান দুলু, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ