নারীর ক্ষমতায়ন: লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। তবে খোদ আওয়ামী লীগে নেতৃত্বে পিছিয়ে আছেন নারীরা। কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সব কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বেঁধে দেওয়া লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি দলটি।

তবে দলটির নারীনেত্রীদের ভাষ্য, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বে রোল মডেল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে রাজনীতিসহ সব খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত আছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০ এর খ(২) অনুচ্ছেদে ২০২০ সালের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ পদ নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো আওয়ামী লীগও ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত হয়েছিল। তা পূরণে সময় বাকি দুই বছরেরও কম। যদিও আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নারী প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তারা সক্ষম হবেন।

ইসিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৪ জেলা ও ১২টি মহানগর নিয়ে মোট ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা কমিটি রয়েছে আওয়ামী লীগের। এর বাইরে ৪৯০টি উপজেলা কমিটি, ৩২৩টি পৌরসভা ও ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন কমিটি এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিসহ মোট ১৫ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া গত জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে নারী সদস্যের হার ১৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন দলটি।

নারীদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে ইসির কাছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছিল, দলের তিন সহযোগী সংগঠন-বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও মহিলা শ্রমিক লীগের শত ভাগ সদস্য নারী। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও নারীর ক্ষমতায়নে সংগঠনগুলো কাজ করছে। ২০২০ সালের মধ্যেই সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আওয়ামী লীগ সক্ষম হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নারীনেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে তাদের ধারণার কথা জানা গেছে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে যথেষ্ট আন্তরিক। তবে দেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।

ওই নেত্রীদের একজন বলেন, ‘…আওয়ামী লীগ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণও ঊর্ধ্বমুখী, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি।’

‘আমরা চাই নারীর অংশগ্রহণ আরো বাড়ুক। আমাদের দলীয় ফোরামেও এই নিয়ে বারবার কথা হয়েছে। তবে এই কাজ অনেক কঠিন। কারণ নারীরা বর্তমানে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, এটা যেমন সত্য, তেমনই তৃণমূলে এখনো অনেক জায়গায় নারীরা রাজনীতিতে আসতে পারছে না। পুরুষশাসিত সমাজে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে সারা দেশের প্রত্যেকটি জেলায় নারীরা নেতৃত্বে দিচ্ছেন। মেয়েরা এখন নেতৃত্বে আসছে। মেয়েদের মধ্যে এই সচেতনতা অনেক বেশি এখন। আমাদের সংগঠনের পদও কিন্তু বাড়ানো হয়েছে। রাজনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে আমরা নারী নেতৃত্ব বাড়াতে কাজ করছি। আমাদের মূল দল আওয়ামী লীগেও একজন নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি নারীবান্ধব।’

‘বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে বেশি সুযোগ দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে আগে কতজন নারী এমপি ছিলেন? এখন কতজন? আগামীতে হয়তো আরও বেড়ে যাবে।’

রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীর অংশগ্রহণের মান হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান ষষ্ঠ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০১৬’ অনুযায়ী ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭২তম। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ