জামায়াত-বিএনপির মহাজন এবার নৌকার মাঝি হতে চায়!

 ০২ মার্চ- জালিয়াতি, ফৌজদারি মামলার আসামি এক সময়ের বিএনপি-জামাত নেতাদের মহাজন , অধ্যাপক আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ আগামী নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান। কাওরান বাজারে সন্ত্রাসী কায়দায় নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন বোর্ডের আড়ালে সাধারণ মানুষের সম্পদ দখল করেন তিনি। খুলনায় আরেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ভিসি হয়েছেন দখলবাজ ইউসুফ আবদুল্লাহ। চেহারায় সৌন্দর্য, কথায় অমায়িক  কিন্তু অন্তরে বিষ, মাথায় যত শয়তানি আর মানুষ ঠকানোর কূট বুদ্ধি । তার অপকর্মের নেপথ্যে সব সরকারের কেউ না কেউ শক্তি দেন ।

বিএনপি জামায়াত শাসনামলে জামাতি চিন্তার ইউসুফ আবদুল্লাহ তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যাবাসায়িক পার্টনার হয়ে উঠেন। এছাড়া আমানুল্লাহ আমানের ছায়ায় খুন খারাপি সহ গড়ে তোলেন বিত্ত বৈভব। ভিসি হিসেবে বহাল থাকাসহ ও তার অনৈতিক সম্পদের বিষয়ে প্রশ্নের শেষ নেই।

খোজ নিয়ে জানা গেছে,উচ্চ আদালতে বাতিল ঘোষিত আশিয়ান সিটিতে মূল ক্যাম্পাস দেখিয়ে কাওরানবাজারে জবরদখল করা জায়গায় তিনি গড়ে তুলেছেন বেসরকারি এ বিশ্ববিদ্যালয়টি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল নিয়মনীতি অগ্রাহ্য করে ভিসি অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ নিজেই হয়েছেন নর্দান ট্রাস্টি বোর্ডেরও চেয়ারম্যান। তার ছেলে সাদ আল জাবির আব্দুল্লাহ এবং মেয়ে লাবিবা আব্দুল্লাহকেও বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য করে নিয়েছেন। রীতিমত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করে চলছেন।

হাজারো দুর্নীতি, অসংখ্য অভিযোগ সত্ত্বেও জামায়াতি এ কৌশলবাজের কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। বরং প্রধানমন্ত্রীর এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার ছেলেকে ব্যবসায়িক পার্টনার বানিয়ে দিন দিন তিনি বিশাল দাপুটে হয়ে উঠছেন। ক্ষমতার দাপটে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল করেই ক্ষ্যান্ত থাকছেন না অধ্যাপক আবু আব্দুল্লাহ, তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটায় বিপুল পরিমাণ খাস জমির দখলবাজি নিয়ে ভূমিহীনদের সঙ্গেও সংঘাত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সে বিরোধী দুই জনের হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক রক্তপাত ও জ্বালাও পোড়াওয়ের ঘটনাও ঘটে। তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন হাউজিং এস্টেট ব্যবসায়িদের সংগঠন রিহ্যাব নিয়েও।

ভূমি ব্যবসায়ী হিসেবে অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ প্রাসাদ নির্মাণ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানেরও চেয়ারম্যান। রিহ্যাব এর সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ সংগঠনেরও নেতা হওয়ার খায়েসে তিনি রিট দাখিল করেন আদালতে। সেসব নিয়ে নানা বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জামায়াত-বিএনপির খাস লোক হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ বরাববরই বিএনপি নেতাদের সঙ্গে মিলেমিশে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন। বিএনপি শাসনামলে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদের অঘোষিত ব্যবসায়িক পার্টনার শুধু নন, তার যাবতীয় ব্যবসায়িক টাকা পয়সাও রয়েছে অধ্যাপক ইউসুফের কাছেই। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসও তার ব্যবসায়ের গোপন অংশীদার।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে গোপন সম্পর্কের ক্ষমতায় বলিয়ান অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ হাত বাড়ান সাতক্ষীরার দেবহাটায় নূরারচকের ১৩০০ বিঘা জমিতে। রাতারাতি খাস ভূমি সরকার থেকে ইজারা নেওয়ার কাগজপত্রাদি বানিয়ে সেসব জমি জবর দখল করে নেন। বিরাট এ জায়গা ঘেরাও দিয়ে চিংড়ি ঘেরে পরিণত করেন, পাশেই শুরু করেন অন্য মাছের চাষও। সে সময় সাতক্ষীরার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমানুল্লাহ আমানের ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি। ভূমিহীন মানুষজনের আবাদী জমি দখলবাজির প্রতিবাদে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেও অধ্যাপক ইউসুফের সঙ্গে তারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না।

আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর পরই প্রধানমন্ত্রীর প্রভাবশালী এক উপদেষ্টার ছেলেকে ব্যবসায়িক পার্টনার বানিয়ে অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ অদৃশ্য ক্ষমতা পেয়ে বসেন। এ খুটির জোরেই ২০০৯ সালের ৯ নভেম্বরে ভূমিহীনদের প্রতিবাদ আন্দোলন দমিয়ে এলাকাছাড়া করতে অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় নোড়ারচক ভূমিহীন পল্লীতে। সেখানে ভূমিহীনদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে নির্বিচারে মারধোর চালানো হয়, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও আক্রমণ চলে। ওই সময় সংঘাত সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাত ঘটে, দুই ভূমিহীন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশান বনানীতে জায়গা জমির ব্যবসার মধ্য দিয়েই মূলত উত্থান ঘটে অধ্যাপক আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহর।

কয়েক বছর আগে নর্দান মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্টার মধ্য দিয়ে বেপরোয়া শিক্ষা বাণিজ্যে নেমে পড়েন তিনি। কিন্তু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার ওই মেডিকেল কলেজটি বন্ধ ঘোষণা করেন। ব্যাংক এশিয়া থেকে ৪০ কোটি টাকা এবং বেসিক ব্যাংক থেকে ৭০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা অপরিশোধিত রেখেছেন। এখন তিনি সাতক্ষীরা থেকে এমপি নির্বাচন করার খায়েস নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।

নর্দান ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. ইউসুফ আবদুল্লাহ। প্রফেসর এ ওয়াই এম ইউসুফ আব্দুল্লাহ হচ্ছেন বিত্রনপির যুগ্ন মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ (খালেদার ভাগ্নি জামাই) তার বন্ধু এবং বিএনপি নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানুল্লাহ আমান এর ব্যবসায়ী পার্টনার ছিল। সম্প্রতি এটি এন নিউজ এর দুইটি  ফ্লোর দখল করে রেখেছে যার কিনা বৈধ কাগজপত্র তার কাছে নেই।

এ ব্যাপারে এটি এন বাংলা ও এটি নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রচারিত করলে তা উপরের মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করে নিউজটি বন্ধ করানো হয়। রহস্যময়ী এই প্রফেসর আব্দুল্লাহ এক সময় জামাত এর ঘনিষ্ঠজন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর জামাত গ্রুপ এর শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানা যায়।পরে আবার ভোল পাল্টে হয়ে যান বিএনপির ঘনিষ্ঠ জন, বর্তমানে তার নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের করা ভবনটি বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ এর প্লট। যা  প্রফেসর আব্দুল্লাহর মালিকানাধীন প্রাসাদ নামে একটি ডেভলপার কোম্পানি বানিয়েছে।

এতোকিছুর পরে সে এখন আওয়ামী পরিবারের ঘনিষ্ঠ জন এবং সাতক্ষীরা-৩ (দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ) আসনে আ’লীগের  প্রার্থী।  প্রফেসর আব্দুল্লাহ নৌকা প্রতীক নিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে লড়াই করতে নানা প্রকার ততবির আর লবিং শুরু করছেন। তিনি দাবি করেন আওয়ামী লীগ এর হাই কমান্ড তাকে সিগন্যাল দিয়েছে। এখন সে সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ এর পার্থী হয়ে নির্বাচন করতে ব্যাপক শোডাউন এবং প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় সাতক্ষীরার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিভ্রান্ত ও আতংকিত। এই প্রফেসর আব্দুল্লাহ কখনো জামাত, কখনো বিএনপি, আবার কখনো বা জাতীয় পার্টির লোক বলে পরিচয় দিত। এখন আবার সে পুরনো ইতিহাস ভুলে গিয়ে নৌকার মাঝি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য সাতক্ষীরার জাতীয় পার্টির সাবেক কুখ্যাত এম পি জব্বার এর মেয়ের জামাই।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ