পকেট ভরতেই আবারও গ্যাস-তেলের দাম বাড়ানোর চক্রান্ত – রুহুল কবির

পকেট ভরতেই আবারও গ্যাস-তেলের দাম বাড়ানোর চক্রান্ত – রুহুল কবির
————————–————————–————————–——–
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং-এ বলেছেন, নিজেদের পকেট ভরতে আবারও গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া হচ্ছে গরিব মানুষকে পথে বসানোর চক্রান্ত। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারণে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সরকারের এসব গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করবেন বলেই খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিং-এর পূর্ণপাঠ নিচে দেওয়া হলোঃ

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
গত কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমে জানতে পারলাম-আবারো গ্যাস ও জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির কারনে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। তার ওপর চালের মূল্য বর্তমানে আবারো ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বর্তমানে সাধারণ মানুষ কোনমতে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছে। গরীব মানুষরা পেট ভরে ভাত খেতে পায় না। বিদ্যূতের অভাবে এই সেচ মৌসুমে কৃষি কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তার ওপর সরকার গ্যাস ও জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধির যে উদ্যোগ নিচ্ছে তা শুধু ধ্বংসাত্মক নয়, গরীব মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র। সরকারের এই গণবিরোধী ও জনস্বার্থবিরোধী এবং রক্তশোষণের নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন বলেই বাক স্বাধীনতা, মানুষের মৌলিক-মানবাধিকার তথা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। ভয়ঙ্কর এক খেলায় মেতেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি চেয়ারপার্সনকে কারাবন্দী করা যেন শেখ হাসিনার বহুদিনের মনের আশা। সেটি পূরণ করতে পেরে তিনি এখন আরও আদিম উল্লাসে বেপরোয়া।

বন্ধুরা,
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন-দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র করছে। আমি বলতে চাই-রাষ্ট্রক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে ভোগ করতে নীল নকশা করছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি চেয়ারপার্সনকে মিথ্যা ও জাল নথির মাধ্যমে সাজানো মামলায় কারাগারে পাঠানো সেই নীল নকশারই অংশ। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় সাজা ঘোষণাসহ বিএনপি’র লাখ লাখ নেতাকর্মীকে বানোয়াট মামলায় জড়ানো, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে সুযোগ না দিয়ে নিজেরা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারী খরচে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ইত্যাদি কর্মকান্ড প্রমান করে বিএনপি নয় বরং আওয়ামী লীগই ক্ষমতা ধরে রাখতে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সুতরাং সরকারই তো ষড়যন্ত্রের হেড মাস্টার, যারা ক্ষমতা জোর করে ধরে রেখে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে, বিরোধী দলকে রাজপথে লাঠিপেটা করে, ব্যাংক বীমাসহ রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদোরপূর্তি করে গুহায় বাসকারী দস্যু দলের মতো দেশ চালাচ্ছেন,্ তারাই বলছেন ষড়যন্ত্রের কথা। সত্যিই উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ।

দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে সমাদৃত ও জনপ্রিয় নেত্রীকে প্রতিহিংসার জেদে আটকিয়ে রাখার পরিণতি তিনি টের পাচ্ছেন না। পতনের হাতছানি শেখ হাসিনা অনুধাবন করতে পারছেন না। শেখ হাসিনা যে গুন্ডাশাহী কায়েম করেছেন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তিনি সহ্য করবেন কেন ? সেইজন্যই তিনি বিএনপি’র ওপর জলকামান, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট, গরম ও রঙ্গিন পানি এবং বেধড়ক লাঠিচার্জের যথেচ্ছ ব্যবহার করছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারও এখন কারাবন্দী। অপশাসনের মারাত্মক বিভিষিকায় সারাদেশের জনগণও যেন বন্দী শিবিরে আটকানো। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে সরকারের এধরণের গণবিধ্বংসী কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মানুষের রক্তচোষা এই উদ্যোগ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

লুটপাট, বেপরোয়া দুর্নীতি ও বিরোধী মত দমনসহ নিজেদের অনাচার ঢাকতে সরকার প্রধানের সারবত্তাহীন হুংকারসর্বস্ব বক্তৃতা, তাঁর মিথ্যা আশাবাদ, লোক দেখানো উন্নয়নের নামে নিজেদের লোকজনের ব্যাপক চৌর্যবৃত্তির সুযোগ এবং বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর মধ্য দিয়েই এরা দিন পার করছে। সেজন্য পুলিশ দিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। এই দেশকে বাঁচাতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই দুর্নীতিবাজ সরকারের মূলোৎপাটন ঘটাতে হবে।

সাংবাদিক বন্ধুরা,
এবার ভিন্ন বিষয়ে আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি-
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যশোর ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নি গতকাল হাইকোর্ট থেকে মিথ্যা মামলায় জামিন নিয়ে বিমানযোগে যশোর গেলে পুলিশ তাকে যশোর এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করেছে। আমি দলের পক্ষ থেকে সাবিরা নাজমুল মুন্নিকে জামিন লাভের পরও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তার নি:শর্ত মুক্তির দাবি করছি।
এছাড়া কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি নেতা আবদুল করিম এবং গোলাম রাব্বানীকে গতরাতে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করলেও তারা বিষয়টি স্বীকার করছে না। আমি দলের পক্ষ থেকে অবিলম্বে বিএনপি নেতা আবদুল করিম এবং গোলাম রাব্বানীকে জনসমক্ষে হাজির করার করার দাবি জানাচ্ছি।

কর্মসূচি-
আগামী ০১ মার্চ ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপি’র বক্তব্য সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হবে।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ