রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা করে নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়া ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, ‘রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।’

বুধবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন বিএনপি মহাসচিব।

গত ৩০ জানুয়ারি সিলেটে জনসভা করে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এর পর ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশাল এবং ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে জনসভা করেন। আগামী ৩ মার্চ সরকারি সফরে খুলনা যাওয়ার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। তার এই সফরকে ঘিরে সেখানেও জনসভার আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

এর আগেও যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় সরকারি সফরে গিয়ে আওয়ামী লীগের আয়োনে জনসভায়ও অংশ নিয়েছেন দলের সভাপতি। ওই জনসভাতেও তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে প্রধানন্ত্রীরা কোনো জেলায় সরকারি সফরে গেলে সাধারণত জনসভা করেই থাকেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াও একইভাবে জনসভা করেছেন। তবে সে আয়োজন সরকারিভাবে করা হয় না, দলের পক্ষ থেকে করা হয়। আর ১৯৯১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসা খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা তাদের দলেরও প্রধান।

তবে বিএনপি বলছে, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সরকারি সুযোগ সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিয়ে জেলা সফরে যান, সেহেতু তার দলীয় সমাবেশে যোগ দেয়া এবং ভোট চাওয়া অনুচিত। এতে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নষ্ট হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধে নির্বাচন কমিশনের চিঠি দিয়েছি আমরা। বলেছি, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হলে এসব বন্ধ করতে হবে।’

এ সময় ফখরুল দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিষয় নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বক্তব্যসহ বেশ কিছু বিষয় কথা বলেন।

ফখরুল জানান, মঙ্গলবার ড. কামালের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। খালেদা জিয়ার মামলার নথিপত্র দেখে তিনি আইনি পরামর্শ দেবেন বলে জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার প্রতি গণফোরাম নেতা সহানুভূতিশীল বলেও জানান ফখরুল।

জাতীয় পার্টিকে সত্যিকারের বিরোধী দল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রওশন এরশাদের দাবির কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘বিরোধী দলীয় নেত্রী সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে করুণ আবেদন করে বলছেন, আমাদের বাঁচান। আসলে আমরা সরকারি না বিরোধী দলে। তারা নিজেরাই জানেন না হইচ ইজ দেয়ার আইডেন্টিটি। প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন, দয়া করে আপনি আমাদের বাঁচান আমাদের আইডেন্টিটি দেন।’

‘এই বক্তব্য থেকেই বুঝবেন, দেশে যে সংসদের কথা বলা হয় যে সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, দেশের আইন তৈরি করা হচ্ছে, সেই সংসদের অবস্থা কী? সেটাতে কি সত্যিকারের জনগণের প্রতিনিধিত্ব আছে কি না সেই বিচার তো আপনারাই (সাংবাদিক) করবেন, দেশের জনগণ করবে।’

ফখরুলের বলেন, ‘তথাকথিত বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়, দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র নেই। এই সংসদ কোনো সংসদ নয়,এটা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।’

Comments..
sidebar
আগের সংবাদ
পরের সংবাদ